Showing posts with label featured. Show all posts
Showing posts with label featured. Show all posts

Monday, July 25, 2022

অসম্পূর্ণ ইচ্ছে

অসম্পূর্ণ ইচ্ছে

অসম্পূর্ণ ইচ্ছে
- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী

ইচ্ছে করছে তোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে একটা চুমু খাই,

তোর চুলগুলো আমার কাঁধে এসে পড়ুক।

ইচ্ছে করছে তোকে কোলে নিয়ে ঘাড়ে একটা চুমু দিই,

তোর মনে যৌনতার স্বাদ জাগিয়ে তুলি।

ইচ্ছে করছে একসাথে মেলায় গিয়ে ফুচকা পাঁপড়ি চাট খাই,

খুশিতে প্রেমের গল্প করি।

ইচ্ছে করছে তোকে একটা পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভূতের ভয় দেখাই,

তুই নাকি একদম ভয় পাস না।

ইচ্ছে করছে একসাথে চলতে চলতে হঠাৎই-

পিছন থেকে তোর চুল ধরে হালকা টানি,

তুই রেগে আমার বুকে মার এক ঘুষি।

ইচ্ছে করছে ভিড় বাসে উঠে বসার জায়গা না পেয়ে-

তুই আমার সামনে দাঁড়িয়ে গায়ে হেলান দিয়ে থাক।

তোর ঘামে একাকার হয়ে যাই,

তোর চুলের গন্ধে প্রেমের জীবনটা উপভোগ করি।

ইচ্ছে করছে তোকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাই,

মনের মতো ক’টা দিন কাটাই‌।

ইচ্ছে করছে কোন এক কালী মন্দিরে গিয়ে

তোর আর আমার বিয়েটা সেরে ফেলি।

তুই আমি কত ঝগড়া করেছি,

বিয়ের পর আমাদের রাজা হবে না রানি হবে এই নিয়ে….।

তোকে শুধু দেখে গেলাম স্বপ্নেতে-

আমার ইচ্ছেগুলো অসম্পূর্ণ থেকে গেল রে।

(চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে জল)

আমি যে শুয়ে আছি হাসপাতালের বেডে,

পাশেই দেখতে পাচ্ছি কম্পিউটার স্ক্রিনে আমার হার্টবিট-

তার ওঠানামা ক্রমশ কমে আসছে, কমে আসছে।

— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী

Friday, April 7, 2017

স্তব্ধ-রাতে

স্তব্ধ-রাতে



স্তব্ধ-রাতে
 কাজী নজরুল ইসলাম
Kazi Nazrul Islam

থেমে আসে রজনির গীত-কোলাহল,
ওরে মোর সাথি আঁখি-জল,
এইবার তুই নেমে আয় –
অতন্দ্র এ নয়ন-পাতায়।
  
আকাশে শিশির ঝরে, বনে ঝরে ফুল,
রূপের পালঙ্ক বেয়ে ঝরে এলোচুল ;
কোন গ্রহে কে জড়ায়ে ধরিছে প্রিয়ায়,
উল্কার মানিক ছিঁড়ে ঝরে পড়ে যায়।
আঁখি-জল, তুই নেমে আয় –
বুক ছেড়ে নয়ন-পাতায়!…
  
ওরে সুখবাদী
অশ্রুতে পেলিনে যারে, হাসিতে পাবি কি তারে আজি?
আপনারে কতকাল দিবি আর ফাঁকি?
অন্তহীন শূন্যতারে কত আর রাখবি রে কুয়াশায় ঢাকি?
ভিখারি সাজিলি যদি, কেন তবে দ্বারে
এসে ফিরে যাস নিতি অন্ধকারে?
পথ হতে আন-পথে কেঁদে যাস লয়ে ভিক্ষা-ঝুলি,
প্রাসাদ যাচিস যার তারেই রহিলি শুধু ভুলি?
সকলে জানিবে তোর ব্যথা,
শুধু সে-ই জানিবে না কাঁটা-ভরা ক্ষত তোর কোথা?
     ওরে ভীরু, ওরে অভিমানী!
যাহারে সকল দিবি, তারে তুই দিলি শুধু বাণী?
সুরের সুরায় মেতে কতটুকু কমিল রে মর্মদাহ তোর?
গানের গহিনে ডুবে কতদিন লুকাইবি এই আঁখি-লোর?
কেবলই গাঁথিলি মালা, কার তরে কেহ নাহি জানে!
  অকূলে ভাসায়ে দিস, ভেসে যায় মালা শূন্য-পানে।
  
সে-ই শুধু জানিল না, যার তরে এত মালা-গাঁথা,
জলে-ভরা আঁখি তোর, ঘুমে-ভরা আঁখি-পাতা।
কে জানে কাটিবে কিনা আজিকার অন্ধ এ নিশীথ,
হয়তো হবে না গাওয়া কাল তোর আধ-গাওয়া গীত,
হয়তো হবে না বলা, বাণীর বুদ‍্‍বুদে যাহা ফোটে নিশিদিন!
সময় ফুরায়ে যায় – ঘনায়ে আসিল সন্ধ্যা কুহেলি-মলিন!
সময় ফুরায়ে যায়, চলো এবে, বলি আঁখি তুলি –
ওগো প্রিয়, আমি যাই, এই লহো মোর ভিক্ষা-ঝুলি!
ফিরেছি সকল দ্বারে, শুধু তব ঠাঁই
ভিক্ষা-পাত্র লয়ে করে কভু আসি নাই।
  
ভরেছে ভিক্ষার ঝুলি মানিকে মণিতে,
ভরে নাই চিত্ত মোর! তাই শূন্য-চিতে
এসেছি বিবাগি আজি, ওগো রাজা-রানি,
চাহিতে আসিনি কিছু! সংকোচে অঞ্চল মুখে দিয়ো নাকো টানি।

জানাতে এসেছি শধু– অন্তর-আসনে
সব ঠাঁই ছেড়ে দিয়ে – যাহারে গোপনে
চলে গেছি বন-পথে একদা একাকী,
বুক-ভরা কথা লয়ে – জল-ভরা আঁখি।
চাহিনিকো হাত পেতে তারে কোনোদিন,
বিলায়ে দিয়েছি তারে সব, ফিরে পেতে দিইনিকো ঋণ!
  
ওগো উদাসিনী,
তব সাথে নাহি চলে হাটে বিকিকিনি।
কারও প্রেম ঘরে টানে, কেহ অবহেলে
ভিখারি করিয়া দেয় বহুদূরে ঠেলে!
জানিতে আসিনি আমি, নিমেষের ভুলে
কখনও বসেছ কি না সেই নদী-কূলে,
যার ভাটি-টানে –
ভেসে যায় তরি মোর দূর শূন্যপানে।
চাহি না তো কোন কিছু, তবু কেন রয়ে রয়ে ব্যাথা করে বুক,
সুখ ফিরি করে ফিরি, তবু নাহি সহা যায়
আজি আর এ-দুঃখের সুখ।…
  
আপনারে দলিয়া, তোমারে দলিনি কোনোদিন,
আমি যাই, তোমারে আমার ব্যথা দিয়ে গেনু ঋণ।

(চক্রবাক কাব্যগ্রন্থ)

Friday, March 17, 2017

নব ভারতের হলদিঘাট

নব ভারতের হলদিঘাট


নব ভারতের হলদিঘাট
কাজী নজরুল ইসলাম 
Kazi Nazrul Islam

বালাশোর – বুড়িবালামের তীর –
         নব-ভারতের হলদিঘাট,
উদয়-গোধূলি-রঙে রাঙা হয়ে
         উঠেছিল যথা অস্তপাট।
  
আ-নীল গগন-গম্বুজ-ছোঁয়া
         কাঁপিয়া উঠিল নীল অচল,
অস্তরবিরে ঝুঁটি ধরে আনে
         মধ্য গগনে কোন পাগল!
আপন বুকের রক্তঝলকে
         পাংশু রবিরে করে লোহিত,
বিমানে বিমানে বাজে দুন্দুভি,
         থরথর কাঁপে স্বর্গ-ভিত।
দেবকী মাতার বুকের পাথর
         নড়িল কারায় অকস্মাৎ
বিনা মেঘে হল দৈত্যপুরীর
         প্রাসাদে সেদিন বজ্রপাত।
নাচে ভৈরব, শিবানী, প্রমথ
         জুড়িয়া শ্মশান মৃত্যুনাট, –
বালাশোর – বুড়িবালামের তীর –
         নব ভারতের হলদিঘাট।

অভিমন্যুর দেখেছিস রণ?
         যদি দেখিসনি, দেখিবি আয়,
আধা-পৃথিবীর রাজার হাজার
         সৈনিকে চারি তরুণ হটায়।
ভাবী ভারতের না-চাহিতে আসা
         নবীন প্রতাপ, নেপোলিয়ন,
ওই ‘যতীন্দ্র’ রণোন্মত্ত –
         শনির সহিত অশনি-রণ।
দুই বাহু আর পশ্চাতে তার
         রুষিছে তিনটি বালক শের,
‘চিত্তপ্রিয়, ‘মনোরঞ্জন,
         ‘নীরেন’ – ত্রিশূল ভৈরবের!
বাঙালির রণ দেখে যা রে তোরা
         রাজপুত, শিখ, মারাঠি, জাঠ!
বালাশোর – বুড়িবালামের তীর –
         নব-ভারতের হলদিঘাট।
  
চার হাতিয়ারে – দেখে যা কেমনে
         বধিতে হয় রে চার হাজার,
মহাকাল করে কেমনে নাকাল
         নিতাই গোরার লালবাজার!
অস্ত্রের রণ দেখেছিস তোরা,
         দেখ নিরস্ত্র প্রাণের রণ;
প্রাণ যদি থাকে – কেমনে সাহসী
         করে সহস্র প্রাণ হরণ!

হিংস-বুদ্ধ-মহিমা দেখিবি
         আয় অহিংস-বুদ্ধগণ
হেসে যারা প্রাণ নিতে জানে, প্রাণ
         দিতে পারে তারা হেসে কেমন!
অধীন ভারত করিল প্রথম
         স্বাধীন-ভারত মন্ত্রপাঠ,
বালাশোর – বুড়িবালামের তীর –
         নব-ভারতের হলদিঘাট।
  
সে মহিমা হেরি ঝুঁকিয়া পড়েছে
         অসীম আকাশ, স্বর্গদ্বার,
ভারতের পূজা-অঞ্জলি যেন
         দেয় শিরে খাড়া নীল পাহাড়!
গগনচুম্বী গিরিশের হতে
         ইঙ্গিত দিল বীরের দল,
‘মোরা স্বর্গের পাইয়াছি পথ –
         তোরা যাবি যদি, এ পথে চল!
স্বর্গ-সোপানে রাখিনু চিহ্ন
         মোদের বুকের রক্ত-ছাপ,
ওই সে রক্ত-সোপানে আরোহি
         মোছ রে পরাধীনতার পাপ!
তোরা ছুটে আয় অগণিত সেনা,
         খুলে দিনু দুর্গের কবাট!’
বালাশোর – বুড়িবালামের তীর –
         নব-ভারতের হলদিঘাট।

    Wednesday, March 1, 2017

    তুমি যে কাজ করছ আমায়

    তুমি যে কাজ করছ আমায়




    তুমি যে কাজ করছ আমায়
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
    Rabindranath Tagore

    তুমি যে কাজ করছ, আমায়
    সেই কাজে কি লাগাবে না।
    কাজের দিনে আমায় তুমি
    আপন হাতে জাগাবে না?
    ভালোমন্দ ওঠাপড়ায়
    বিশ্বশালার ভাঙাগড়ায়
    তোমার পাশে দাঁড়িয়ে যেন
    তোমার সাথে হয় গো চেনা।
    ভেবেছিলেম বিজন ছায়ায়
    নাই যেখানে আনাগোনা,
    সন্ধ্যাবেলায় তোমায় আমায়
    সেথায় হবে জানাশোনা।
    অন্ধকারে একা একা
    সে দেখা যে স্বপ্ন দেখা,
    ডাকো তোমার হাটের মাঝে
    চলছে যেথায় বেচাকেনা।

    ৬ আষাঢ়, ১৩১৭
    (গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ)
    সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরুজ আলম

    সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরুজ আলম

    আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে আমাদের বন্ধু, সিংগাইর উপজেলার পারিল নুর মহসিন বিদ্যায়তনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমানে ঘিওর সরকারী কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরুজ আলম । অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং উৎসবকে সফল করতে সবধরণের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বন্ধু ফিরুজ। তোমাকে পেয়ে আমরা ধন্য।