Showing posts with label ভালবাসার কবিতা. Show all posts
Showing posts with label ভালবাসার কবিতা. Show all posts

Sunday, June 4, 2023

নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও (সহিদীয়া সঙ্গীত_১১)

নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও (সহিদীয়া সঙ্গীত_১১)




যেদিন রজনী হবে অপূর্ব দীপ্তিমিান্
,

সেদিন নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও তোমার প্রিয়জন
প্রিয়জনের প্রিয়মুখ দেখিবার লাগি,
ছুটিও তার কাছে সকল ত্যাগী
তার অনুষঙ্গে জীবন করো অম্লান,
যেদিন রজনী হবে অপূর্ব দীপ্তিমিান্ ,
সেদিন নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও তোমার প্রিয়জন


যেদিন অধিক দীপ্তি পাবে তারা ভরা আকাশ,
সেদিন নিয়ন্তাকে সত্তহীনে করিও তালাশ।
তালাসে যদি পাও তাহার দিদার,
চির অমর হবে জীবন তোমার।
দিদারের পর হয় যেন জিবনবসান,
যেদিন রজনী হবে অপূর্ব দীপ্তিমিান্ ,
সেদিন নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও তোমার প্রিয়জন।

যেদিন রজনী না হবে গরম- না হবে শীতল,
সে রাতে সখাকে খুঁজিও অবিরল।
অপেক্ষায় থেকো বসে সাজিয়ে আসর,
উজ্জ্বল হবে যখন ফুলের বাসর।
মনের হরষে গাইও মিলনের গান,
যেদিন রজনী হবে অপূর্ব দীপ্তিমিান্ ,
সেদিন নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও তোমার প্রিয়জন।

প্রিয়াকে পাবার আশে, দিবসে উপবাসী,
পুছিও তাকে তুমি, যেদিন বিজোড় নিশি।
আরাধনায় মিষ্টতা মিলবে যবে,
বুঝে নিয়ো প্রিয়া তোমার এসেছিলে তবে।
তাঁহার উদ্ভাসে জীবন হবে মহীয়ান,
যেদিন রজনী হবে অপূর্ব দীপ্তিমিান্ ,
সেদিন নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও তোমার প্রিয়জন।

নিবিষ্টতায় যেদিন পাবে সুখের প্রখর দ্যুতি,
সেদিন তোর আসরে আসতে পারে পতি।
পতি বিনে নাইরে গতি, নাইরে কোন উপায়,
শক্তি থাকতে কর ভক্তি পতির সুপ্ত পায়।
পতি যদি থাকে তৃপ্ত, সার্থক দু’জাহান,
যেদিন রজনী হবে অপূর্ব দীপ্তিমিান্ ,
সেদিন নিমিষহারা নয়নে খুঁজিও তোমার প্রিয়জন।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul77@gmail.com
চিল্কায় সকাল

চিল্কায় সকাল

চিল্কায় সকাল 

-বুদ্ধদেব বসু

আমার লাগলো আজ এই সকালবেলায়
কেমন করে বলি?
কী নির্মল নীল এই আকাশ, কী অসহ্য সুন্দর,
যেন গুণীর কণ্ঠের অবাধ উন্মুক্ত তান
দিগন্ত থেকে দিগন্তে;
কী ভালো আমার লাগলো এই আকাশের দিকে তাকিয়ে;
চারদিক সবুজ পাহাড়ে আঁকাবাঁকা, কুয়াশায় ধোঁয়াটে,
মাঝখানে চিল্কা উঠছে ঝিলকিয়ে।
তুমি কাছে এলে, একটু বসলে, তারপর গেলে ওদিকে,
স্টেশনে গাড়ি এসে দাড়িয়েঁছে, তা-ই দেখতে।
গাড়ি চ’লে গেল!- কী ভালো তোমাকে বাসি,
কেমন করে বলি?
আকাশে সূর্যের বন্যা, তাকানো যায়না।
গোরুগুলো একমনে ঘাস ছিঁড়ছে, কী শান্ত!
-তুমি কি কখনো ভেবেছিলে এই হ্রদের ধারে এসে আমরা পাবো
যা এতদিন পাইনি?
রূপোলি জল শুয়ে-শুয়ে স্বপ্ন দেখছে; সমস্ত আকাশ
নীলের স্রোতে ঝরে পড়ছে তার বুকেরউপর
সূর্যের চুম্বনে।-এখানে জ্ব’লে উঠবে অপরূপ ইন্দ্রধণু
তোমার আর আমার রক্তের সমুদ্রকে ঘিরে
কখনো কি ভেবেছিলে?
কাল চিল্কায় নৌকোয় যেতে-যেতে আমরা দেখেছিলাম
দুটো প্রজাপতি কতদূর থেকে উড়ে আসছে
জলের উপর দিয়ে।- কী দুঃসাহস! তুমি হেসেছিলে আর আমার
কী ভালো লেগেছিল।
তোমার সেই উজ্জ্বল অপরূপ মুখ। দ্যাখো, দ্যাখো,
কেমন নীল এই আকাশ-আর তোমার চোখে
কাঁপছে কত আকাশ, কত মৃত্যু, কত নতুন জন্ম
কেমন করে বলি।

Friday, April 7, 2017

স্তব্ধ-রাতে

স্তব্ধ-রাতে



স্তব্ধ-রাতে
 কাজী নজরুল ইসলাম
Kazi Nazrul Islam

থেমে আসে রজনির গীত-কোলাহল,
ওরে মোর সাথি আঁখি-জল,
এইবার তুই নেমে আয় –
অতন্দ্র এ নয়ন-পাতায়।
  
আকাশে শিশির ঝরে, বনে ঝরে ফুল,
রূপের পালঙ্ক বেয়ে ঝরে এলোচুল ;
কোন গ্রহে কে জড়ায়ে ধরিছে প্রিয়ায়,
উল্কার মানিক ছিঁড়ে ঝরে পড়ে যায়।
আঁখি-জল, তুই নেমে আয় –
বুক ছেড়ে নয়ন-পাতায়!…
  
ওরে সুখবাদী
অশ্রুতে পেলিনে যারে, হাসিতে পাবি কি তারে আজি?
আপনারে কতকাল দিবি আর ফাঁকি?
অন্তহীন শূন্যতারে কত আর রাখবি রে কুয়াশায় ঢাকি?
ভিখারি সাজিলি যদি, কেন তবে দ্বারে
এসে ফিরে যাস নিতি অন্ধকারে?
পথ হতে আন-পথে কেঁদে যাস লয়ে ভিক্ষা-ঝুলি,
প্রাসাদ যাচিস যার তারেই রহিলি শুধু ভুলি?
সকলে জানিবে তোর ব্যথা,
শুধু সে-ই জানিবে না কাঁটা-ভরা ক্ষত তোর কোথা?
     ওরে ভীরু, ওরে অভিমানী!
যাহারে সকল দিবি, তারে তুই দিলি শুধু বাণী?
সুরের সুরায় মেতে কতটুকু কমিল রে মর্মদাহ তোর?
গানের গহিনে ডুবে কতদিন লুকাইবি এই আঁখি-লোর?
কেবলই গাঁথিলি মালা, কার তরে কেহ নাহি জানে!
  অকূলে ভাসায়ে দিস, ভেসে যায় মালা শূন্য-পানে।
  
সে-ই শুধু জানিল না, যার তরে এত মালা-গাঁথা,
জলে-ভরা আঁখি তোর, ঘুমে-ভরা আঁখি-পাতা।
কে জানে কাটিবে কিনা আজিকার অন্ধ এ নিশীথ,
হয়তো হবে না গাওয়া কাল তোর আধ-গাওয়া গীত,
হয়তো হবে না বলা, বাণীর বুদ‍্‍বুদে যাহা ফোটে নিশিদিন!
সময় ফুরায়ে যায় – ঘনায়ে আসিল সন্ধ্যা কুহেলি-মলিন!
সময় ফুরায়ে যায়, চলো এবে, বলি আঁখি তুলি –
ওগো প্রিয়, আমি যাই, এই লহো মোর ভিক্ষা-ঝুলি!
ফিরেছি সকল দ্বারে, শুধু তব ঠাঁই
ভিক্ষা-পাত্র লয়ে করে কভু আসি নাই।
  
ভরেছে ভিক্ষার ঝুলি মানিকে মণিতে,
ভরে নাই চিত্ত মোর! তাই শূন্য-চিতে
এসেছি বিবাগি আজি, ওগো রাজা-রানি,
চাহিতে আসিনি কিছু! সংকোচে অঞ্চল মুখে দিয়ো নাকো টানি।

জানাতে এসেছি শধু– অন্তর-আসনে
সব ঠাঁই ছেড়ে দিয়ে – যাহারে গোপনে
চলে গেছি বন-পথে একদা একাকী,
বুক-ভরা কথা লয়ে – জল-ভরা আঁখি।
চাহিনিকো হাত পেতে তারে কোনোদিন,
বিলায়ে দিয়েছি তারে সব, ফিরে পেতে দিইনিকো ঋণ!
  
ওগো উদাসিনী,
তব সাথে নাহি চলে হাটে বিকিকিনি।
কারও প্রেম ঘরে টানে, কেহ অবহেলে
ভিখারি করিয়া দেয় বহুদূরে ঠেলে!
জানিতে আসিনি আমি, নিমেষের ভুলে
কখনও বসেছ কি না সেই নদী-কূলে,
যার ভাটি-টানে –
ভেসে যায় তরি মোর দূর শূন্যপানে।
চাহি না তো কোন কিছু, তবু কেন রয়ে রয়ে ব্যাথা করে বুক,
সুখ ফিরি করে ফিরি, তবু নাহি সহা যায়
আজি আর এ-দুঃখের সুখ।…
  
আপনারে দলিয়া, তোমারে দলিনি কোনোদিন,
আমি যাই, তোমারে আমার ব্যথা দিয়ে গেনু ঋণ।

(চক্রবাক কাব্যগ্রন্থ)